আসসালামু আলাইকুম,

কেমন আছেন সবাই, আশা করি ভালো আছেন, আমি অধোরা আফরিন আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম অতুলনীয় স্বাদের ঐতিহ্যবাহী মাংসের কালা ভূনা, গরুর মাংসের কালা ভূনা নামটা শোনা মাত্রই ভোজন রসিকদের মাঝে একটা ফেন্টাসি জেগে ওঠে, কালা ভূনা মানে কি,অনেকেই ভাবছেন হয়তো মাংটাকে ভেজে কালো করে রান্না করতে হয়,ব্যাপারটা কিন্তু একদমই সেই রকম না,কালা ভূনা মাংসটা নাতো ভেজে নিতে হয় আর নাতো পুড়িয়ে রান্না করতে হয়, প্রপার ভাবে রান্না করলেই এটা কালা ভূনা হবে,কারণ কালা ভূনা মানেই হচ্ছে কালা ভূনা

বাংলা খাবারের মধ্যে কিন্তু কালা ভূনা নামটার একটা নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে, আর এই কালা ভূনা রান্নার প্রসেসটা কিন্তু একেবারে ভিন্ন

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কালা ভূনা কি করে করতে হবে আজ আমি আপনাদের সেটাই বলবো, আমরা উপকরণ গুলো জেনেনি,

উপকরণ  যা লাগবে—

গরুর মাংস ২ কেজি, পিয়াস দই কাপ কুচি, দুইটা তেজপাতা,তিনটি কালো বড়ো এলাচ,দারুচিনি তিন টুকরো, ছোট সাদা এলাচ চারটা, লং ছয়টি, গোল মরিচ বারোটি, কাবাব চিনি ছয়টি, পিঁয়াজ বেরেস্তা এক কাপ, শুকনা মরিচ এর গুঁড়া দুই টেবিল চামচ, হলুদ এর গুঁড়া হাফ টেবিল চামচ, ধনিয়া গুঁড়ো দুই টেবিল চামচ, লবন স্বাদমতো,আদাবাটা রসুন বাটা এক চামচ করে, তেল দুই কাপ , এক কাপ সয়াবিন তেল আর এক কাপ সরিষার তেল, আর তার সাথে থাকবে গোল মরিচ আর গরম মশলার গুঁড়ো

প্রস্তুত প্রনালী—–

পুরো মাংসটা প্যানে নিন, তারপর একে একে সয়াবিন তেল , আদাবাটা , রসুন বাটা, আস্ত গরম মশলা,পিঁয়াজ বেরেস্তা, হলুদ , লবন, আর মরিচের গুঁড়া দিয়ে ভালো করে হাত দিয়ে মেখে নিন,যত ভালো করে মিশিয়ে নিবেন মাংসের ফ্লেভার কিন্তু তত ভালো আসবে,কালা ভূনার বৈশিষ্ট্য হলো এই মাংসে হাড় এবং চর্বি থাকতে হবে, ফ্রেশ মাংস দিয়ে কালা ভূনা কখনোই ভালো হবে না,মাখানো হয়ে গেলে চুলায় বসিয়ে দিন , আমি কিন্তু এখনো মাংসে কোন পানি এড করিনি,চুলার আচটা ফুল দিয়ে পুরো পাঁচ মিনিট রান্না করবো, পাঁচ মিনিট পর ঢাকনা তুলে ভালো করে উল্টে পাল্টে নেড়ে দিন, খেয়াল করে দেখেন মাংস কিন্তু তার নিজস্ব পানি ছেড়ে দিচ্ছে,ঢেকে দিবো আবার খুলে উল্টে পাল্টে নেড়ে দিবো,যতহ্মন না প্রযন্ত মাংসের পানি শুকিয়ে আসে

এই ভাবে বিশ মিনিট পর দেখবেন মাংসের পানি শুকিয়ে তেল উঠে আসছে,এই বার মাংসে গোল মরিচের গুঁড়া আট চা চামচ, জয়ফল একটা গুঁড়ো, আনুমানিক তিন গ্রাম জয়ত্রী,ভাজা জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ,গরম মশলার গুঁড়ো আধা চা চামচ,রাধুনি গুঁড়ো আধা চা চামচ পরিমান দিয়ে আবার ভালো করে মিশিয়ে নেবার জন্য উল্টে পাল্টে নেড়ে দিন, এই বার আমরা বাগার এর জন্য অন্য একটা প্যানে এক কাপ সরিষার তেল দিকে দিন, তারপর এতে এক কাপ পিঁয়াজ কুঁচি দিয়ে ভাজতে থাকুন যখন হালকা বাদামি রং হয়ে আসবে তখন কিছু রসুন কুঁচি আর গোটা কয়েকটা শুকনা মরিচ দিন, পিঁয়াজে বেরেস্তার কালার এলে রান্না করা মাংস থেকে কিছুটা মাংস তেলের মধ্যে তুলে ঢেকে দিন, এই ভাবে এক মিনিট পার হবার পর পুরো তেলটা মাংসের প্যানে ঢেলে দিবো, ভালো করে উল্টে পাল্টে নেড়ে নিন,এরপর আবার হাফ টেবিল চামচ গরম মশলা গুঁড়ো এবং হাফ টেবিল চামচ রাধুনি গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন

তারপর পাঁচ মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন, পাঁচ মিনিট পর ঢাকনা খুলে আবার ভালো করে কষিয়ে নিন, হয়ে গেলো ঐতিহ্যবাহী কালা ভূনা, এই বার সুন্দর করে পরিবেশন করুন

আজ এই প্রযন্ত  আবার কথা হবে  অন্য কোনদিন অন্য কোন টপিক সবাই ভাল থাকবেন  সুস্থ থাকবেন সেই প্রত্যাশায় কে আমি অধরা আফরিন আজকের মত বিদায় নিলাম আল্লাহ হাফেজ

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *